Success Stories

করোনাকালের সফল উদ্যোক্তা বকুল আক্তার

পটভূমি : জন্মের পরই প্রবল প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য নাজেহাল হতে হয়েছে মানসিকভাবে। কিন্তু একটুও দমে যাননি তিনি। অবিরাম লড়ে গেছেন নিজেকে যোগ্য প্রমাণের জন্য। অবশেষে তিনি তা পেরেছেন। এমনকি করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজেকে একজন লাভবান উদ্যোক্তা প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন তিনি। নাম তার বকুল আক্তার। তার লড়াইস্পৃহাও ঘ্রাণ ছড়ায় বকুলের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের বাজেবিশাড়া গ্রামের বকুল আক্তার জন্মেছেন বিকলাঙ্গ হয়ে। তার দুটি হাতই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ ছোট। তিনি তার পিতা মরহুম আবুল কাশেম ও মা সখিনা বেগমের পাঁচ সন্তানের ভেতর পঞ্চম। সন্তান জন্ম নিলে বাবা-মায়ের সুখের সীমা থাকে না, কিন্ত বকুলের জন্ম সুখের চেয়ে দুঃশ্চিন্তাই বেশি বয়ে নিয়ে এলো পরিবারে; কারণ ছোট ছোট দুটি হাত নিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। বেড়ে উঠতে উঠতে লাঞ্ছনা আর গঞ্জনা সয়ে যেতে হয় তাকে। এমনিতেই আমাদের সমাজে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে মা-বাবার দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না, সেখানে মেয়ে যদি হয় শারীরিক প্রতিবন্ধী তা হলে তো কথাই নেই! জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই বকুলকে খেলার সাথিদের তিরস্কার সহ্য করতে হয়েছে, বাঁকাচোখে তাকিয়েছে আশপাশের মানুষ। হাত দুটি অস্বাভাবিক বলে তাকে লেখা শিখতে হয়েছে অনেক কষ্ট করে। অনেকে তো ভাবতেই পারেনি তিনি লেখাপড়া শিখতে পারবেন! তিনি তার মেজো বোনের সহযোগিতায় বাসায় স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ লিখতে শিখেছেন। অবশ্য অন্যদের তুলনায় অনেক পরে তার স্কুলজীবন শুরু হয়েছিল। শিক্ষকদের আন্তরিকতার এবং কয়েকজন সহপাঠীর সহযোগিতায় তিনি ২০১১ সালে  এসএসসি এবং ২০১৪ সালে  এইচএসসি  পরীক্ষায় পাস করেন। স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় বাবা মারা গেলে সংসারে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে।

দক্ষতা/ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড : টিউশনি করে জমানো কিছু টাকা এবং কিছু টাকা ধার করে তিনি বিকাশের এজেন্সি নিয়ে লেনদেন শুরু করেন। এভাবে অনেক সংগ্রামের পর ২০১৮ সালে স্নাতক পাস করেন এবং সিদীপ  সমৃদ্ধি কর্মসূচির শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরের বছর বিয়ে করেন, কিন্তু শ^শুর-শাশুড়ি তাকে এখনও মেনে নেননি। তার এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায় সিদীপ। এবার তিনি চাকরি ও জমানো টাকায় ব্যবসা শুরু করেন।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত পুঁজি এবং পুঁজির উৎস : ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তাকে রতনপুর শাখা থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় বর্ধনমূলক ঋণ (আইজিএ) দেয়া হলে তিনি কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোভিড-১৯-এর বিরূপ প্রভাব : বকুলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব পড়েছিল কোভিড-১৯-এর কারণে। তার স্বামীর কাঁচামালের ব্যবসা এবং তার কাপড়ের ব্যবসা থমকে যায় করোনার কারণে। 

বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার ক্ষেত্রে এল আর এল কার্যক্রমের ভূমিকা : করোনাজনিত কারণে কাপড়ের ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিদীপ, রতনপুর শাখা থেকে এল আর এল কার্যক্রমের আওতায় তাকে বিকাশ ব্যবসা প্রকল্পের ওপর ৫০ হাজার টাকা  ঋণ দেয়া হয়। এ ঋণ পেয়ে তিনি বাড়িতে বসেই বিকাশ-এর মাধ্যমে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় অর্থনৈতিক কর্মকা- শুরু করতে সক্ষম ।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান অবস্থা : বর্তমানে তিনি বিকাশ ব্যবসা ছাড়াও গরু পুষছেন এবং  তার স্বামী আবার কাচঁমালের ব্যবসা শুরু করেছেন। সব মিলে এখন তার অর্থনৈতিক কর্মকা- বেশ ভালোই চলছে।

উদ্যোক্তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা : বকুল আক্তার ভবিষ্যতে কাপড় ও বিকাশের ব্যবসার পাশাপাশি দক্ষ গরুর খামারি হয়ে লাভবান হতে চান। বিকলাঙ্গ শরীরের কারণে তাকে যে গঞ্জনা সইতে হয়েছে, একজন বড় উদ্যোক্তা হয়ে বকুল তার মোক্ষম জবাব দিতে চান। একই সঙ্গে  তিনি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রাখতে চান।

 

 

 

 

চৌকস চাষি দম্পতি আমেনা-মুনসুর নতুন স্বপ্ন সূর্যমুখীতে

নিজেদের ভাগ্য তারা নিজেরাই গড়ছেন। দারিদ্র্যকে রূপ দিয়েছেন ঐশ^র্যময় সৃষ্টিশীলতায়। অভাবে অভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে থাকা সংসারকে সৃষ্টিশীল মেধা আর লড়াকু কর্মস্পৃহায় সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের পথে নিয়ে এসেছেন। এখন সূর্যমুখী ফুলের চাষে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন  চৌকস চাষি দম্পতি আমেনা বেগম ও মুনসুর আলী। এভাবেই তারা তাদের এগিয়ে চলায় যোগ করে চলেছেন উদ্ভাবনের বৈচিত্র্যময় মাত্রা। আর তাদের উন্নয়নযাত্রায় ঋণ সহায়তার ডালি হাতে সব সময়েই পাশে থাকছে সিদীপ। 
কৃষিতে এই সাফল্য-কাহিনি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের মোছাম্মৎ আমেনা বেগমের। জীবনসঙ্গী স্বামী মোঃ মুনসুর আলী তার এই কৃষি উদ্যোগেও সার্বক্ষণিক বিশ^স্ত সাথি। এক সময়ে তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। নিজেদের ২ বিঘা জমি যদিও ছিল, কিন্তু টাকার অভাবে সেই জমিতে ফসল ফলানো সম্বব হতো না। সংসার চালানোর জন্য আমেনার স্বামী মুনসুর প্রায় সারা বছরই অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করত। খুবই অল্প কয়েকটা দিন নিজেদের জমিতে কাজ করার সুযোগ পেতো। এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে চলছিল তাদের সংসার।

                                               
আমেনা বেগমের পরিবারের সদস্য চারজন। স্বামী-স্ত্রী এবং দুই সন্তানÑ এক ছেলে ও এক মেয়ে । অভাবের কারণে সন্তানদের পড়ানোর কথা ভাবতেও পারতেন না। স্বামী-স্ত্রী দুজনে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার পরও  তাদের সংসারের অভাব কখনো দূর হতো না। সেই দুর্দিনে আমেনা বেগম প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, সিদীপ নামে একটি সংস্থা দরিদ্র পরিবারের লোকদের বিভিন্ন ধরনের ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে, যার কিস্তি প্রতিমাসে বা সপ্তাহে পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া সংস্থাটি আরো এক ধরনের ঋণ দেয়, যার কিস্তি ছয় মাস বা এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিশোধ করতে হয়। এককালীন পরিশোধের এ বিষয়টি তার খুব ভাল লেগে যায় এবং তার মধ্যে এ ঋণ নেয়ার আগ্রহ জাগে। বিষয়টি নিয়ে আমেনা বেগম তার স্বামীর সাথে আলোচনা করেন এবং ঋণের টাকা দিয়ে তাদের জমিতে এবং আরো জমি লিজ রিয়ে তাতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে লাভের টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব এবং লাভবান হওয়া সম্বব বলে তার স্বামীকে জানান। স্ত্রীর ভাবনা বাস্তবসম্মত মনে করে স্বামী মুনসুর আলী স্ত্রীর কথায় সম্মত হন এবং সিদীপ থেকে ঋণ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর আমেনা  বেগম ২০১৪ সালের ০৭ জুলাই মাওনা  ব্রাঞ্চে সিদীপের সদস্য হয়ে সাধারণ ঋণ গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালে সিদীপ থেকে কৃষি ঋণ বা এসএমএপি ঋণ নেয়া শুরু করেন। তিনি প্রথম ধাপে ২০১৪ সালের ০১ সেপ্টেম্বর ৬০,০০০ টাকা সাধারণ ঋণ গ্রহণ করেন এবং এ টাকা দিয়ে তিনি তার দুই বিঘা জমির সাথে আরো এক বিঘা জমি লিজ নেন এবং সেখানে লাল শাক, পালং শাক, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, মুলা ইত্যাদি সবজি চাষ করেন। তার সবজির ফলন খুব ভালো হয় এবং ভালো দামে সেগুলো বিক্রি করেন। এরপর ২০১৫ সালের ০৮ আগস্ট ৮০ হাজার টাকা সাধারণ ঋণ নেন এবং তার আগের তিন বিঘা জমির সাথে আরো দুই বিঘা জমি লিজ নেন এবং একইভাবে বিভিন্ন সবজি চাষ করতে থাকেন। তৃতীয় ধাপে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই ১ লাখ টাকা সাধারণ ঋণ নেন এবং এ টাকা দিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে একইভাবে বিভিন্ন সবজি চাষ করেন এবং  একটি ষাঁড় গরু কেনেন এবং সেটিকে মোটাতাজা করে বিক্রি করেন। ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট চতুর্থ ধাপে ১ লাখ টাকা সাধারণ ঋণ নেন। এবার তিনি তার সবজি খেত হতে লাভের টাকা এবং ষাঁড় বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে একইভাবে বিভিন্ন সবজি চাষ করেন এবং তিনটি এঁড়ে বাছুর কিনে মোটাতাজা করে বিক্রি করেন। পঞ্চম ধাপে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৬০,০০০ টাকা সাধারণ ঋণ নেন এবং এ টাকা দিয়ে তিনি তার আগের পাঁচ বিঘা জমির সাথে আরো তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ করেন। ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮০ হাজার টাকা সাধারণ ঋণ গ্রহণ করেন এবং সে টাকা দিয়ে তার সবজি খেতে সেচ দেয়ার জন্য একটি সেচ পাম্প স্থাপন করেন।
বর্তমানে আমেনা বেগম আট বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন এবং তার সাতটি বড় গরু এবং দুইটি বাছুর রয়েছে। এর মধ্যে দুটি  গাভী রয়েছে, যা থেকে দিনে ১২ থেকে ১৫ লিটার দুধ পাচ্ছেন। পরবর্তীতে সিদীপ কর্মকর্তারা তাকে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কমকর্তা এবং  মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার  সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং বর্তমানে তিনি কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ধীরে ধীরে তার শ্রীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথেও যোগাযোগ হয় এবং এসব যোগাযোগের ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন  প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সম্পর্কে বেশ ভালো জ্ঞান অর্জন করেছেন। পাশাপাশি সিদীপ থেকে আয়োজিত বিভিন্ন কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও তিনি নিয়মিত অংশ নিয়ে থাকেন।
আমেনা বেগম প্রথম ৩০,০০০ টাকা এসএমএপি  ঋণ নেন ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর। এ ঋণের টাকা দিয়ে তিনি তার জমিতে শিম,লাউ, ফুলকপি,বাঁধাকপি, টমেটো এবং ধান চাষ করেন। ছয় মাসে আমেনা বেগম তার সবজি খেত থেকে প্রায় ৯০,০০০ টাকার সবজি বিক্রি করেন এবং সব খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয় ৪০,০০০ টাকা। দ্বিতীয় দফায় ২০২০ সালের ৯ জুলাই ৪০ হাজার টাকা এসএমএপি ঋণ নেন। এ ঋণের টাকা আগের লাভের টাকার সাথে মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সবজি চাষ করেন ও গরুর বিভিন্ন খাদ্য কেনেন। 
আমেনা বেগম এসএমএপি ঋণ নেয়ার আগে টেকনিক্যাল ওরিয়েন্টেশনের সময় মাওনা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং তিনি তাকে দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষের জন্য বীজ ও ফুল চাষে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। তিনি তার ছয় বিঘা জমিতে চক্রাকার পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেন, যাতে সব সময় তার সবজি খেত থেকে  সবজি বিক্রি করতে পারেন এবং বাকি দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করেন। 
বর্তমানে আমেনা বেগম তার সবজি খেত থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেন।  তার খরচ হয়েছিল প্রায় ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া তার সূর্যমুখী ফসলের অবস্থাও ভাল এবং সব সময় এই ফসলের কোনো সমস্যা বা রোগবালাই হচ্ছে কিনা তা সিদীপের কৃষি কর্মকর্তা এবং মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আমেনা বেগম বলেন এই ফসল উৎপাদন করতে তার জমি, সার , জমি চাষ, সেচ, নিড়ানি ও কর্তন বাবদ প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হবে। বর্তমানে ফসল যে অবস্থায় আছে তাতে এ ফসল বিক্রি করে প্রায় ৬০ থেকে-৭০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। আমেনা বেগম ও তার স্বামী মুনসুর আলী জানান সূর্যমুখী ফুল চাষ করে এক মৌসুমে ৪৫ থেকে ৫২ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। তারা ঠিক করেছেন আরো বেশি জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করবেন, যাতে তাদের জীবনেও সূর্যের হাসি ফোটে। 
ভীষণ অভাবে নাকা-ি চুবানি খেতে থাকা সেই আমেনা বেগম এখন তার আগের টিনের বেড়ার ঘর ভেঙে ইটের ঘর নির্মাণের জন্য ইট কিনেছেন এবং স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে সংসার করছেন। ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করছে। নিজেদের সাফল্যে গর্বিত আমেনা জানান, পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। তবে তার জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ দরকার।

শুঁটকি ব্যবসায় দারিদ্র্য ঘুচিয়ে মিরা রানী এখন সফল উদ্যোক্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকাটি নদী,খাল, বিলবেষ্টিত। এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস মাছ চাষ, ছোট খাটো ব্যবসা ও কৃষি অন্যতম। লালপুরের কান্দাপাড়া বসবাস করে শতাধিক জেলে পরিবার। মাছ ধরে বিক্রি করেই চলে এসব পরিবার। তবে বর্তমানে এসব পরিবারের অনেকেই পুঁটি মাছের সিদল/ চেপা শুঁটকি তৈরি ও বিক্রি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। হ্যাঁ তাদেরই একজন মিরা রানী।
মিরা রানীর যখন বিয়ে হয় তখন তার স্বামী নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করে খুব কষ্টে সংসার চালাতেন। অভাব-অনটনের সংসার ছিল। স্বামী বিকাশ দাসের পক্ষে কিছুতেই পরিবারের অভাব অনটন থেকে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। দিন দিন পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ৫ মেয়েসহ তার পরিবারের সদস্য ৭ জন। আয়ের একটি বাড়তি পথ খুঁজতে খুঁজতে এক সময় মিরা রানীর স্বামী মাছ ধরে বিক্রির পাশাপাশী মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে স্থানীয় বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটে বিক্রি করতে থাকেন। দিনদিন এতে ভালো লাভ হতে থাকে । তখন মিরা রানীর স্বামী বিকাশ দাস ভাবতে থাকেন শুঁটকির ব্যবসাটাকে কীভাবে আরও বড় করা যায়! বিষয়টি নিয়ে মিরা রানীর সাথে আলাপ করেন। আলোচনা করে দুজনেই ঠিক করেন শুঁটকি ব্যবসাটা আরো বড় করবেন। কিন্তু  অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। অগত্যা মিরা রানী তার কিছু সোনার অলঙ্কার বিক্রি করে ১ লাখ টাকা দিয়ে পুঁটি মাছ কিনে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করতে থাকেন। এভাবে চলতে থাকে মিরা রানী ও বিকাশ দাসের সংসার। 

শুঁটকি থেকে আয় বাড়তে থাকায় তাদের এ ব্যবসা আরো বড় করে তোলার ইচ্ছেটাও বাড়তে থাকে। তারা স্বপ্ন দেখেন ব্যবসাটাকে আরও বড় করার এবং পাশাপাশি একটি আড়ত খুলবেন। এমন অবস্থায় ২০১৭ সালে তাদের আলাপ হয় সিদীপ-এর একজন কর্মীর সাথে। বিকাশ দাস তার স¦প্নের কথা কর্মীকে জানালে সেই কর্মী তাকে জানিয়েছিলেন, সিদীপ তাকে এ ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। তার পরামর্শক্রমে মিরা রানী সিদীপের সেখানকার একটি মহিলা সমিতিতে যোগ দেন এবং ঋণের আবেদন করেন। যাচাই শেষে তার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে ২০১৭ সালের ৬ জুন তাকে ৪৮,০০০ টাকা ঋণ দেয়া হয়। এই টাকা দিয়ে পুঁটি মাছ কিনে সেগুলো কুটিয়ে মাচা/ডাংগির মধ্যে শুকিয়ে মাটির মটকিতে ভরে গুদামজাত করেন। এভাবে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে এবং এই দম্পতি নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি তাদের আড়তে কর্মরত ৮-১০ জন কর্মচারীর পরিবারের দায়িত্ব নেয়। এভাবে এক বছর কাটার পর ২০১৮ সালে মিরা রানী সিদীপ থেকে আরো ১,৫০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে তা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। ধীরে ধীরে তাদের ব্যবসার পরিধি এবং লোকবল বাড়তে থাকে। এরপর মিরা রানী ২টি শুঁটকির আড়তের মালিক হন এবং ২০ জন কর্মচারী নিয়োগ করেন।  
এভাবে ধীরে ধীরে মিরা রানী ও বিকাস দাসের শুঁটকির ব্যবসা বাড়ছে। তাদের শুঁটকির চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় তারা   উৎপাদন আরো বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করেন। কিন্তু তাদের কাছে যে পরিমাণ অর্থ ছিল তাতে উৎপাদন সেভাবে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। অগত্যা তারা আবারো সিদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সিদীপ বরাবরের মতো তাদের পাশে দাঁড়ায় এবং তাদের ৩,০০,০০ টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করে। এই টাকা দিয়ে তারা পুঁটি মাছের পাশাপাশি লইট্যা, পোয়া, বাইন ইত্যাদি মাছ কিনে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করতে থাকেন এবং তাদের আয় বেশ বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাদের ব্যবসায় ৫০ লাখ টাকার পুঁজি রয়েছে। এখন প্রতি মাসে তাদের মাসিক আয় গড়ে ২ লাখ টাকা। শুঁটকি ব্যবসায় দারিদ্য ঘুচিয়ে এভাবেই এখন একজন সফল উদ্যোক্তা।

 

সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন নাসিমা

নেহাত পেটের দায়ে কাজ করে যান তারা। ভোরের আলো ফোটার আগেই লেগে যান জমিতে ফসল ফলাতে, জলাশয়ে মাছচাষে, গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি পুষতে, নকশিকাঁথার শৈল্পিক কারুকাজে, নরম মাটি ছেনে ছেনে ইমারত আর নানা নির্মণযজ্ঞের ইট গড়তে এবং এই ধরনের আরো অনেক ঘাম ঝরানো কাজে। কারো কোনো অনুকম্পার ধার না ধেরে ¯্রফে জীবন বাঁচানোর অহর্নিশ প্রয়াসে তারা নিজেদের রুটি-রুজির সংস্থান করে নেন। নিজস্ব মেধা, শ্রম আর উদ্ভাবনী প্রতিভায় ভর করে এদের অনেকেই হয়ে ওঠেন স্বাবলম্বী। কারো কারো উদ্যোগ এনে দেয় সচ্ছলতাÑ হয়ে ওঠেন এলাকার সফলতা-প্রত্যাশীদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। এদেরই একজন হচ্ছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শোল্লাপাড়া গ্রামের নাছিমা বেগম। তারা শুধু নিজের সংসারের সাবলীল সচ্ছলতাই আনেন না, দেশের অর্থনীতির চাকাকেও করে তোলেন আরো বেগবান। মূলত এই নাসিমাদের হাত ধরেই উন্নতির সোপান বেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।


এই তো, মাত্র কয়েক বছর আগের কথা। ভীষণ কষ্টে চলছিল নাছিমার সংসার। তার স্বামী মো. মহিউদ্দিন সামান্য একটু জমিতে চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। নাছিমা গেরস্তালির কাজ করতেন। দুই মেয়েকে বহু কষ্টে বিয়ে দেয়ার পরও সংসারের টানাটানি কমছিল না। দুই ছেলের কারোই লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি। এক সময় মহিউদ্দিন একটু বড় পরিসরে ভালোমতো চাষাবাদ করবেন বলে চড়া সুদে গ্রামের এক মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরিশ্রমের মাত্রাও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এতো করেও হালে পানি পাননি তিনি। যা আশা করেছিলেন, ফসল ফলেছিল তার চেয়ে অনেক অনেক কম। একেবারে কোমর ভেঙে পড়েছিল তার। স্বামীর দিকে তাকাতে পারতেন না নাছিমা। খুব কষ্ট হতো। নিজে কিছু করে সংসারের আয় বাড়ানোর জন্য উপায় খুঁজছিলেন। এক সময় নাছিমা তার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে জানতে পারেন সিদীপ নামের এক এনজিও সবজি চাষের জন্য এসএমএপি ঋণ দেয়। জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় তারা এই প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে। নাছিমা তখন সিদীপের শোল্লাপাড়া মহিলা সমিতিতে যোগ দেন এবং সবজি চাষের জন্য ঋণের আবেদন করেন। সম্ভাব্যতা যাচাই করে তাকে সিদীপ থেকে ৫০ হাজার টাকা এসএমএপি ঋণ দেয়া হয়। এই ঋণ নিয়ে নাসিমা ও তার স্বামী আলু, টমেটো, বেগুন ইত্যাদি চাষ করতে থাকেন এবং সংসারের অভাব কিছুটা ঘোচাতে সক্ষম হন। এ সময় তার বড় ছেলে গাভী পুষে কিছুটা সহায়তা করতে চাইলে নাছিমা এবং তার স্বামী ধার-দেনা করে স্থানীয় হাট থেকে দুটি গাভী কিনে আনেন। এই দুই গাভীর দুধ বিক্রি করে সংসারের আয় একটু একটু বাড়তে থাকে। নাছিমা ও মহিউদ্দিন এতে গাভী পালনে আরো আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এভাবে যতোই দিন যেতে থাকে তাদের উৎসাহ ততোই বাড়তে থাকে। অন্য কয়েক জায়গা থেকেও ঋণ নেন নাসিমা। স্বামী আর দুই ছেলেসহ ফজরের ওয়াক্ত থেকে রাত পর্যন্ত ভীষণ পরিশ্রম করতে থাকেন সবজি চাষে আর গরু পালনে। এর ফলও পান। নাছিমার এখন ৩০টি গরু, যার ১৫টিই গাভী। এখন তিনি রোজ ৫০ থেকে ৬০ লিটার দুধ বিক্রি করতে পারেন। কখনো দাম কমে ৫০ টাকায় বিক্রি হয় প্রতি লিটার দুধ, আবার কখনো ৬০ টাকা এমনকি ৮০ টাকা লিটার দরেও দুধ বিক্রি করতে পারেন। গরুর গোবর থেকে সার তৈরি করেও আয় করছেন। এই গরুর খামারের জন্য তিনি এক একর জমিতে নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করছেন। পাশাপাশি আলু, টমেটো, বেগুন ইত্যাদি সবজিও চাষ করছেন, যা থেকে মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা লাভ করছেন। সিদীপের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার সবজি চাষ ও গরু পালনে নানা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের ওপর এসএমএপি’র আওতায় সিদীপ এক প্রশিক্ষণ আয়োজন করলে নাছিমাকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ ছাড়া তার সবজি চাষ এবং গরু পালনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সিদীপের কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে তা সমাধানের চেষ্টা করে থাকেন। এভাবেই দিনদিন নিজের আর্থিক ভিত আরো মজবুত করে চলেছেন নাছিমা বেগম।  
নাছিমা এখন গোটা এলাকার মানুষের কাছে এক প্রেরণার নাম। নিজের ও দেশের আর্থিক উন্নয়নের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নিজের সাফল্য নিয়ে কিছু বলার অনুরোধ করলে এই প্রতিবেদকের কাছে তিনি জাইকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সিদীপের মাধ্যমে আমি শুধু জাইকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ সহায়তাই পাইনি, আমি যাতে সফল হতে পারি সেজন্য তারা আমার প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছে। 

 

 

শিসক শিক্ষিকা শাহীনুরের সফল উদ্যোগ

স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে দু চোখে অন্ধকার দেখছিলেন শাহীনুর বেগম। এক পুত্র এবং এক কন্যাসন্তান নিয়ে গলগ্রহ হয়ে পড়েছিলেন শ^শুরবাড়িতে। ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ-চিন্তায় চোখে সর্ষেফুল দেখছিলেন। তার ওপর উঠতে-বসতে কথার খোঁচা তাকে আরো বিভ্রান্ত করে দিচ্ছিল। এতো দুর্বিপাক, এতো অপমান, এতো অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। বিয়ের আগেই এসএসসি পাশ করেছিলেন, তাই নিজেই পড়াতেন ছেলে-মেয়েকে। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের শিশুদেরও পড়াতেন অর্থের বিনিময়ে। তার পড়ানোর কৌশলে মুগ্ধ হয়ে গ্রামের অভিভাবকেরা তাদের শিশু-সন্তানদের পড়াশোনার ভার তার কাঁধে তুলে দিয়ে নিজেরা এ ব্যাপারে নির্ভার থাকতেন। তার এই গুণপনার কথা ছড়িয়ে পড়লে সিদীপের চন্দ্রগঞ্জ শাখার শিক্ষা সুপারভাইজার আকলিমা আক্তার মুক্তা এক সময় তা জেনে যান এবং তিনি শাহীনুরকে সিদীপের শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিতে (শিসক) একজন শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেন। শাহীনুর এ প্রস্তাব লুফে নেন। নিজের উঠোনে শিশুদের একটি শিক্ষাকেন্দ্র খুলে সিদীপের একজন শিসক শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। এতে সংসারের অভাব কিছুটা ঘুচলেও শ^শুরবাড়ির নিন্দার জাল কেটে আলাদা সংসার করার অবস্থায় যেতে পারেননি। তিনি বেশ বুঝতে পারছিলেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবন সুগম করতে হলে তাকে আয়ের একটি স্থায়ী পথ খুঁজে বের করতে হবে। এরই মধ্যে চন্দ্রগঞ্জ শাখায় সিদীপের শিক্ষিকা সমিতি গঠিত হলে তিনি এক ঝলক আশার ইঙ্গিত দেখতে পেলেন।

তিনি তার শাখার শিক্ষিকা সমিতিতে যোগ দিলেন এবং মাসে মাসে সঞ্চয় শুরু করলেন। এরপর সিদীপ শিক্ষিকা সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঘরে বসে পোশাক বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। তিনি স্থানীয় পাইকারি বাজার থেকে শিশু ও নারীদের বিভিন্ন পোশাক এবং থান কাপড় কিনে এনে গ্রামবাসীদের কাছে বিক্রি করতে থাকেন। তিনি একজন শিসক শিক্ষিকা বলে গ্রামের নারী ক্রেতাদের কাছে বাজারের দোকানদারদের চেয়ে বেশি বিশ^স্ত ছিলেন, আর সেজন্যই দ্রæত তিনি তার ব্যবসায় উন্নতি করতে সক্ষম হন। এর ফলে এক সময় তিনি তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে শ^শুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মতো করে সংসার চালাতে থাকেন। 
এখন তার একমাত্র উদ্দেশ্য ব্যবসাটাকে আরো বড় করে তুলবেন, যাতে ছেলে-মেয়েকে সুশিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন। একই সঙ্গে গ্রামের শিশুদের দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিসকের শিক্ষিকা হিসেবেও কাজ করে যেতে চান শাহীনুর। 

 

 

 

 হাসি ফুটেছে গুরুদাসপুরের বড়ই চাষিদের মুখে

 

বড়ই কুল চাষের জন্য নাটোরের গুরুদাসপুর আগে থেকেই বিখ্যাত। এ বছর এখানকার বড়ই চাষিরা সম্ভাবনার আরো কয়েক ধাপ উপরে উঠে গেছেন, আর এর পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে জাইকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত সিদীপের এসএমএপি কার্যক্রম। সিদীপের গুরুদাসপুর শাখার কর্ম-এলাকায় মামুদপুর, বের গংগারামপুর, নাজিরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে সিদীপের অনেক সদস্য শস্য ও শাক-সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নত জাতের বড়ই বা কুল চাষ করে থাকেন, যা তাদের আর্থিকভাবে বেশ লাভবান করে থাকে। তারা যেসব উন্নত জাতের বড়ই চাষ করে থাকেন তার ভেতরে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বলসুন্দরী, কাশ্মিরি, নারকেলি কুল, বাউকুল ও আপেলকুল। এই বড়ই বা কুল চাষের ওপর তারা অনেকটাই নির্ভরশীল। এই উন্নত জাতের কুল চাষের জন্য সিদীপ গুরুদাসপুর শাখা হতে সাধারণ ঋণের পাশাপাশি  এসএমএপি ঋণ গ্রহণ করে থাকেন। এ বছর কুল চাষ করে সিদীপের গুরুদাসপুর শাখার বেশ কয়েকজন সদস্য ব্যাপক সফলতার সম্ভানার দারপ্রান্তে পৌঁছেছেন। সিদীপের এই এসএমএপি ঋণী সদস্যগণ এ বছর একেকজন সদস্য ৩-৪ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের  কুল চাষ করেছেন এবং এই মধ্যে তা বাজারজাত শুরু হয়েছে। সাধারণত তাদের এক বিঘা জমিতে ১২০/১৫০ মণ পর্যন্ত কুল উৎপন্ন হয়ে থাকে। প্রতিমণ কুল জাত ভেদে তারা বিভিন্ন দরে বাজারজাত করে থাকেন, যেমনÑ  যেমন বর্তমানে প্রতিমণ বলসুন্দরী ৪,০০০ টাকায়, কাশ্মিরি ৩,০০০ টাকায়, নারকেলি কুল ২,৫০০ টাকায় এবং বাউ কুল ও আপেল কুল প্রতিমণ ১,৫০০ টাকায় বাজারজাত করছেন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরতদার ও বেপারিরা তাদের জমি থেকে নগদ টাকায় বড়ই কিনে নিয়ে যায় । প্রতিবিঘা জমির বড়ই তারা গড়ে ১,২০,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০/টাকায় বিক্রি করতে পারেন।